
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন আহমেদ আল-শারা। সিরিয়া-র এই প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে চলমান সংঘাতের বাইরে রাখা এবং কোনোভাবেই যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়া।
তুর্কি টুডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর-এর নামাজ শেষে দামেস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা খুব সতর্কভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে সিরিয়া কোনো সংঘাতে না জড়ায়।”
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তার সরকার প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
গত দেড় দশক ধরে সংঘাতে জর্জরিত থাকা সত্ত্বেও এখন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিসরে সিরিয়ার অবস্থান উন্নত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আরব দেশগুলোর পাশে থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রেসিডেন্ট।
একসময় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সিরিয়া। তবে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দেশটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইল প্রতিহত করছে। এরই মধ্যে শুক্রবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) সিরিয়ার একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
তাদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের সোয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, তারা দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ক্ষতি হতে দেবে না এবং তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ওই এলাকায় সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় উপজাতিদের সঙ্গে দ্রুজদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মর্টার শেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে আবাসিক এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসেও একই অঞ্চলে দ্রুজ যোদ্ধা ও সুন্নি বেদুইনদের মধ্যে সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।