
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন স্বাস্থ্যখাতেও—যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধে হিলিয়াম সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এমআরআই পরীক্ষায় বিলম্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আল জাজিরা–এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিলিয়াম গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে এমআরআই স্ক্যানের ক্ষেত্রে।
হিলিয়াম মূলত তরল আকারে ব্যবহার করা হয় এমআরআই মেশিন ঠান্ডা রাখতে। ফলে এর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে হাসপাতালগুলোতে স্ক্যান সেবা সীমিত হয়ে পড়তে পারে, এমনকি রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিশ্বে হিলিয়ামের বড় অংশ উৎপাদিত হয় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে কাতারের গ্যাস স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হিলিয়াম সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিলিয়াম শুধু চিকিৎসা খাতেই নয়, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এর ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। যদিও অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী মজুদ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা সেবা, বিশেষ করে এমআরআই পরীক্ষার ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সুত্র: আল জাজিরা