
চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি- এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনে ইরান একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ বন্ধের নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে এমন যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি।
এছাড়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বকে ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবি উত্থাপন করেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই আলোচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরুর কয়েক দিন আগে।
তবে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইরানের দৃষ্টিতে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব একটি ‘প্রতারণা’, যার পেছনে একাধিক লক্ষ্য রয়েছে—নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে উপস্থাপন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে সময় নেওয়া।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি