মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই দেশে মিলিয়ে ৪২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে শুধু ইরানেই প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। একই সময়ে নিহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইউএনএইচসিআরের হাই কমিশনার বারহাম সালিহ সতর্ক করে বলেছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং পরিস্থিতি একটি গুরুতর মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশই সিরিয়ার দিকে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় ‘বাফার জোন’ তৈরির লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।