
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত কোনো ‘দালাল’ বা মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে ভূমিকা নিতে পারে না। এই মন্তব্যটি করা হয় যখন বিরোধী দলগুলো পাকিস্তানের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মধ্যস্থতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জয়শঙ্কর বৈঠকে বলেছিলেন, “ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদের সংযোগকারী ভূমিকা মোট নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান ১৯৮১ সাল থেকে এমন মধ্যস্থতা করছে। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও এটি কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ভারত নিজস্ব কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীসহ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, পাকিস্তান যখন শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তখন ভারত কেন ‘নীরব দর্শক’ হিসেবে আচরণ করছে।
এর জবাবে সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সকলকে জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দ্রুত থামানো প্রয়োজন, কারণ এটি সব পক্ষের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতীয় প্রবাসী এবং ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এখন পর্যন্ত নিরাপদ রয়েছে এবং তা তদারকি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইসলামাবাদে এই সংলাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। খবর অনুসারে, পাকিস্তান মিশর ও তুরস্কের সঙ্গে মিলে পর্দার আড়ালে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শেহবাজ শরিফের প্রস্তাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছেন। যদিও ইরান প্রকাশ্যে কোনো আলোচনার বিষয় অস্বীকার করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের ব্যাখ্যা ‘অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছে এবং সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তুলেছে। কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, “ভারত যখন এই সংকট থেকে দূরে থাকছে, পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।” তবে সরকার বিরোধীদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ভারত সঠিক সময়ে যথাযথ কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।
বর্তমানে ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে, যা ভারতের রাজনৈতিক মহলে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণের বিষয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে