
রাশিয়ার অভ্যন্তরে আবারও দূরপাল্লার হামলার ঘটনা—সামারা অঞ্চলের একটি বিস্ফোরক উৎপাদন কারখানায় ইউক্রেনের ফ্লেমিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালবেলায় এই হামলা সংঘটিত হয় বলে রুশ টেলিগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্থানীয়দের তোলা ছবি ও ভিডিওতে সামারার চাপায়েভস্ক শহরের ‘জেএসসি প্রমসিনতেজ’ কারখানা এলাকা থেকে বিশাল অগ্নিগোলক উঠতে দেখা গেছে।
রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত কিছু ছবিতে ‘এফপি-৫ ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্রকে কারখানার দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তবে হামলার প্রকৃতি বা ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘ফায়ার পয়েন্ট’ নামের একটি বিতর্কিত প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফ্লেমিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্রটি গত বছরের গ্রীষ্মে প্রথম প্রকাশের পর সীমিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে এর ব্যবহার বেড়েছে বলে জানা গেছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার (১ হাজার ৮৬৪ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশীয়ভাবে নির্মিত এই অস্ত্র ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ‘জেএসসি প্রমসিনতেজ’ কারখানাটি ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে দেশের “সবচেয়ে সফল ক্ষেপণাস্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ২০২৫-২০২৬ সালের শীতকাল থেকে এর ব্যাপক উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি ফ্লেমিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার উদমুর্তিয়া প্রজাতন্ত্রের ভোটকিনস্ক কারখানায় হামলা চালায় ইউক্রেন। ওই কারখানায় রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট