
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। নাসা পরিচালিত আর্টেমিস টু মিশনে চার নভোচারী এখন মহাকাশে, যারা চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়।
চাঁদে নামা নয়, ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির মিশন
১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং ওরিয়ন মহাকাশযান-এর সব গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে। এই মিশনের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের পুনরায় পদচারণা এবং মঙ্গল অভিযানের পথচলা।
কারা আছেন এই অভিযানে
চার সদস্যের দলে রয়েছেন—
রিড ওয়াইজম্যান
ভিক্টর গ্লোভার
ক্রিস্টিনা কোচ
জেরেমি হ্যানসেন
তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরবেন এবং এ যাত্রায় তারা ইতিহাসের সবচেয়ে দূরত্ব অতিক্রম করা মানবদল হতে যাচ্ছেন।
নতুন রেকর্ডের পথে
চাঁদের উল্টো পিঠে পৌঁছানোর সময় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৮৪১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবেন। এতে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে যাবে।
একাধিক ‘প্রথম’-এর সাক্ষী
এই মিশনে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রথম—
প্রথমবার এসএলএস রকেটে মানুষ পাঠানো
প্রথমবার ওরিয়ন মহাকাশযানে নভোচারীদের চন্দ্রাভিযান
প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম অ-মার্কিন নভোচারীর চাঁদের কক্ষপথে যাত্রা
যেভাবে শুরু হলো যাত্রা
উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই রকেটের বুস্টার আলাদা হয়ে যায় এবং আরএস-২৫ ইঞ্জিন ওরিয়নকে মহাকাশে নিয়ে যায়। নভোচারীরা কারমান লাইন অতিক্রম করে মহাকাশে প্রবেশ করেন।
এই মিশনটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি’ অনুসরণ করছে, যা আগে অ্যাপোলো ৮ মিশনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
চাঁদে ফেরার বড় পরিকল্পনা
নাসা জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ মিশনে স্পেসএক্সের স্টারশিপ ও ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডার ব্যবহার করা হবে।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, এই মিশনের মূল লক্ষ্য শুধু রেকর্ড গড়া নয়, বরং ভবিষ্যতের জটিল মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতা
বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, ফলে মহাকাশে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।