মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর দাবি তুলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্টিভ ব্যানন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা ও ‘মাগা’ আন্দোলনের নেতা স্টিভ ব্যানন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) উদ্দেশ্য করে বলেন, মিয়ামিতে অবস্থানরত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে দেশ থেকে বের করে দেওয়া উচিত।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যানন বলেন, “যখন প্রয়োজন তখন ডিএইচএস কোথায় থাকে? তাকে অবিলম্বে ফেরত পাঠিয়ে সামরিক ইউনিফর্ম পরিয়ে যুদ্ধের প্রথম সারিতে মোতায়েন করা হোক।” উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে নেতানিয়াহুর দুই ছেলে—ইয়ার ও আভনার—কেউই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) যোগ দেননি, যা নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শুধু ইয়ার নেতানিয়াহু নয়, বিশ্ব নেতাদের সন্তানদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের দাবি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও নিয়ে এমন দাবি উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘ড্রাফট ব্যারন ট্রাম্প ডটকম’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প পরিবারের ভুয়া উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাকে ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ বা ড্রাফটে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও ১৯৭৩ সালের পর আর কোনো বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তানদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্টিভ ব্যানন কেবল এই দাবি তুলেই থেমে থাকেননি, বরং ইরানের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো দখলের পক্ষেও মত দিয়েছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের প্রস্তাব দেন।
তার মতে, আকারে ছোট হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনী দক্ষ। খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখান দিয়ে চীনে রপ্তানি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরেও এই দ্বীপ দখল করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ব্যানন মধ্যপ্রাচ্যের রাজপরিবারের সদস্যদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সমালোচনা করে তাদেরও যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কাতার ও সৌদি আরবের রাজপুত্রদের লন্ডনের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাননের এই কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যেই ক্ষোভ রয়েছে যে ক্ষমতাবানদের সন্তানরা নিরাপদে থাকলেও সাধারণ নাগরিকরা যুদ্ধের মূল্য দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট