
ইরানের আলবোরজ প্রদেশের কারাজ অঞ্চলে নির্মাণাধীন বি ওয়ান সেতুতে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি দায় স্বীকার করে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, হামলায় ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতুটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তেহরান আলোচনায় না এলে সামনে আরও ‘ধ্বংসযজ্ঞ’ অপেক্ষা করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো জানায়, কারাজ শহরে অবস্থিত এই সেতুটি নির্মাণাধীন অবস্থায় ছিল এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে বিবেচিত। প্রাদেশিক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও প্রায় একশ জনের কাছাকাছি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষে ঘটনাস্থলে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সেতু এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়, যা ট্রাম্প নিজেই শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধসে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। সামনে আরও অনেক কিছু ঘটবে।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, এখনই আলোচনায় না এলে দেশটির জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হামলা শত্রুর নৈতিক পতনেরই প্রমাণ, এতে ইরানিরা আরও প্রতিরোধে দৃঢ় হবে।’
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে দাবি করা হয়, সেতুটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। প্রথম দফায় হতাহতের পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আবারও হামলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত শেষের দিকে গেলেও ইরান তাঁর শর্ত না মানলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহে আমরা তাদের প্রস্তুর যুগে ফিরিয়ে নিতে পারি।’