
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা দেখিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী বিমানগুলো লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন—ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে—তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বরং উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার মধ্য দিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে।
জুলফাগারি জানান, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি আধুনিক শত্রু যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আঘাত হানার পর বিমানটি কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হরমুজ প্রণালির নিকটে বিধ্বস্ত হওয়া ‘এ-১০’ (A-10) মডেলের যুদ্ধবিমানটির কথাই উল্লেখ করেছেন।
একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও তোলে ইরান। প্রথমটি ছিল ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) মডেলের যুদ্ধবিমান, যা ইরানের মধ্যাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বিতীয় বিমান হিসেবে ‘এ-১০’ মডেলের আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবর আসে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমানবাহিনীর জন্য ওই অঞ্চলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেন, ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।