
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে ইরান। এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি নির্ধারণ করা হবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান দেশগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা করেছে— ‘শত্রু’, ‘নিরপেক্ষ’ এবং ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’।
এই শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে না। ‘নিরপেক্ষ’ দেশগুলোর জন্য প্রণালী ব্যবহারে উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোকে অবাধে এই নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে এখনো এই তিন শ্রেণিতে কোন কোন দেশ অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি তেহরান।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ আরব দেশকে ইতোমধ্যে ‘নিরপেক্ষ’ বা ‘শত্রু’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ফলে এসব দেশের জাহাজকে হয় বেশি ফি পরিশোধ করতে হবে, নয়তো প্রণালী ব্যবহারের সুযোগ হারাতে হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে হতাহত ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।