
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির যুদ্ধবিরতি চলছে। ইরান দাবি করছে লেবাননও এই সংহতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, তবে ইসরায়েল তা সরাসরি অস্বীকার করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে এই সাময়িক শান্তির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান এখানে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং হোয়াইট হাউসের দূতিয়ালিতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
ইসলামাবাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও নেপথ্যে ছিল মার্কিন প্রশাসনের ব্যাপক চাপ। কয়েক সপ্তাহ ধরে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসলামাবাদকে বাধ্য করেছিল যাতে তারা তেহরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করায়। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটন তাদের প্রস্তাব তেহরানের টেবিলে পৌঁছে দেয়।
একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়িয়ে দাবি করছিলেন যে, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য ‘অনুনয় করছে’।
সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তৎপরতা
পাকিস্তানের এই নেপথ্য কূটনীতির চাবিকাঠি ছিল দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাতে। মঙ্গলবার রাতে যখন ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসছিল, তখন জেনারেল মুনির অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তালিকায় ছিলেন স্বয়ং ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
পরবর্তীতে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দুই সপ্তাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করেন। এই সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন।
সামাজিক মাধ্যমে হাসির খোরাক শাহবাজ শরিফ
তবে এই কূটনৈতিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে গিয়ে বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, শাহবাজ শরিফ ঘোষণাটি দেওয়ার আগেই হোয়াইট হাউস থেকে সেই বিবৃতির খসড়া অনুমোদন করে দেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে যখন শাহবাজ শরিফ এটিকে পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্যোগ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। পোস্ট করার সময় তিনি অসাবধানতাবশত সেখানে ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা’ শিরোনামটি মুছতে ভুলে যান। এই ভুলের জেরে নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ব্যাপক হাস্যরসের শিকার হচ্ছেন তিনি। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, এটি পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্যোগ নয়, বরং অন্য কারো লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট।
বর্তমানে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবানন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি হামলা চুক্তির ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।