
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—সোমবার থেকেই দেশটির বন্দরগুলো অবরোধে নামছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যদিও হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল চালু রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের চলাচলে অবরোধ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (জিএমটি দুপুর ২টা, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে কার্যকর হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে তারা ‘বাধা সৃষ্টি করবে না’।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, দেশটি কোনো ধরনের হুমকির মুখে ‘নতি স্বীকার করবে না’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের ‘ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতার’ জবাব হিসেবেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর হামলা হলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ইরানিকে তারা ‘উড়িয়ে দেবে’। পাশাপাশি ইরানকে ট্রানজিট টোল প্রদানকারী জাহাজগুলো আটক করা হবে বলেও জানান তিনি।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ ‘ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক’।
অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো সামরিক জাহাজকে তারা বর্তমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে।