
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি একে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের নৌসেনারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ১৪:০০টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ইরান সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।
রিয়ার অ্যাডমিরাল ইরানি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর বীর সদস্যরা এই অঞ্চলে আক্রমণকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।’ তিনি আরও বলেন, তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের পর এমন হুমকি দেওয়া তাদের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। তাদের মতে, এ কারণেই এখন ওয়াশিংটন চাপে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। পরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি ছিল।
তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতির কথা জানিয়ে কোনো চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায় ইরানি প্রতিনিধি দল। আলোচনার এই ব্যর্থতার পরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন, যার লক্ষ্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং টোল প্রদানকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এই কঠোর প্রতিক্রিয়া অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার দাবি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অবরোধ শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। তবে রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি স্পষ্ট করে বলেছেন, আঞ্চলিক জলসীমায় কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।