
মার্কিন ঘোষিত অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম পূর্ণ দিনে হরমুজ প্রণালি–তে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সংযুক্ত অন্তত তিনটিসহ মোট আটটি তেলবাহী জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে। যদিও আগে এই রুটে দৈনিক ১৩০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ ঘোষণা করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ অতিক্রম করেনি এবং ছয়টি জাহাজ নির্দেশ পেয়ে ফিরে যায়।
তবে ইরান-সংযুক্ত কিছু জাহাজ প্রণালি পার হলেও তারা ইরানের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল না, ফলে সরাসরি অবরোধের প্রভাব পড়েনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজও প্রণালি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর–এর দিকে যাচ্ছিল।
চীন এই অবরোধকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে মন্তব্য করেছে বলে জানায় প্রতিবেদনে। তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পূর্ণাঙ্গ অবরোধ না হয়ে “নিয়ন্ত্রিত বা আংশিক অবরোধ” হতে পারে, যেখানে সরাসরি হামলা নয় বরং জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
যুদ্ধঝুঁকি বীমার খরচ বাড়লেও এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অনিশ্চয়তার কারণে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও কমে যেতে পারে।