
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বড় ধরনের সরাসরি সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
থায়ার মার্শাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেসের মতে, ইরানের সমর্থন থাকলেও হুথিরা নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে নামতে চায় না। তিনি বলেন, ইরান তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর লেবাননের হিজবুল্লাহ যেভাবে জোরালোভাবে মাঠে নেমেছে, তার তুলনায় হুথিদের ভূমিকা ছিল অনেকটাই সীমিত।
রোচেসের বিশ্লেষণে উঠে আসে, বর্তমানে হুথিরা ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের শাসন কাঠামো মজবুত করতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে নতুন করে বড় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে সেই নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে ফেলতে তারা আগ্রহী নয়।
তিনি আরও বলেন, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের কোনো পদক্ষেপকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ এই অঞ্চলটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক বীমা কোম্পানিগুলো আগে থেকেই এ পথের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েছে। এমনকি উচ্চমূল্যের পণ্যবাহী জাহাজগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে হুথিদের হুমকি বাস্তবায়িত হলেও তা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বড় প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাদের মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে ঘিরেই।
ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া তাদের জন্য কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ডেভিড ডেস রোচেসের বিশ্লেষণে হুথিদের সামরিক হুমকির চেয়ে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ রয়েছে, সাম্প্রতিক তৎপরতা থেকে বোঝা যায় হুথিরা মূলত প্রতীকী অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে বড় ধরনের সরাসরি হামলা বা স্থায়ী অবরোধ তৈরির সক্ষমতা কিংবা ইচ্ছা—দুটোরই ঘাটতি রয়েছে তাদের মধ্যে। ফলে এই উত্তেজনা বড় কোনো যুদ্ধের দিকে গড়াবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আলজাজিরা