
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য নতুন ধাপে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতির চাপা সমীকরণ সামনে এসেছে। ইসলামাবাদে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর আগেই পাকিস্তানের নুর খান বিমান ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি মার্কিন সরকারি উড়োজাহাজের অবতরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও প্রশ্ন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানে পৌঁছানো এসব উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত দুটি একই দিনে অবতরণ করে। বাকি চারটি এর আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে নুর খান বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে নামে। এসব উড়োজাহাজে যোগাযোগ সরঞ্জাম, মোটরকেড সহায়তা এবং অতিরিক্ত লজিস্টিক সামগ্রী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার দ্বিতীয় ধাপকে ঘিরে প্রস্তুতি যাচাই ও সমন্বয় জোরদার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় নকভি দাবি করেন, ইসলামাবাদে আগত যে কোনো প্রতিনিধি দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুরো আয়োজন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক ইরান সফরের প্রসঙ্গও আলোচনায় আনেন এবং চলমান প্রক্রিয়াকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তবে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পাকিস্তানের ভূমিকা ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে মন্তব্য করলেও তেহরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই, বরং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। তার ভাষায়, শত্রু পক্ষকে ঘিরে সতর্ক থাকা মানে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করা।
সূত্র: আলজাজিরা