
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের আগেই পদ ছাড়লেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বিনিয়োগসংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে চাপে পড়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন গুরুং। সেখানে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং মন্ত্রীর পদ যেন তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না ফেলে—এই বিবেচনায় তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
গুরুং আরও বলেন, ক্ষমতার চেয়ে নৈতিকতার গুরুত্ব তার কাছে বেশি এবং জনআস্থা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সাম্প্রতিক ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো করেছে, যা তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
৩৬ বছর বয়সী সুধন গুরুং গত ২৭ মার্চ বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি, যার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল। সম্প্রতি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ভাটকে গ্রেপ্তার করে নেপাল পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন গুরুং, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও পরে তারা মুক্তি পান।
বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও, গুরুংকে ঘিরে এ বিতর্ক সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।