.png)
ভারত ও চীনকে ঘিরে বর্ণবাদী মন্তব্যসম্বলিত একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ রেডিও উপস্থাপক মাইকেল সেভেজ-এর লেখা একটি চিঠি শেয়ার করেন। চিঠিটিতে ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।
ওই লেখায় সেভেজ ভারত ও চীনকে ‘হেলহোল’ বা ‘নরক’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এসব দেশ থেকে মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেয় শুধুমাত্র জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করে এই ব্যবস্থা বন্ধের আহ্বান জানান। এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারত বা চীন থেকে আসা ব্যক্তিরা গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন, ফলে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটি মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এরপর সেই শিশুর মাধ্যমে পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এই পোস্টটি এমন সময়ে শেয়ার করেন ট্রাম্প, যার একদিন আগেই তিনি সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম নেই। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিশ্বের বাস্তব চিত্র ভিন্ন—প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশেই এ ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পোস্ট ও মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ভারত ও চীন-এ সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরালো করতেই তিনি এমন উসকানিমূলক বক্তব্যে সমর্থন দিচ্ছেন।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ ও ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ভারত ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে, তখন এমন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি