
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলীকে ঘিরে হেনস্তা, দাঁত ফেলে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, তাকে পথরোধ করে অপমান ও হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. আলাউদ্দিন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে নির্বাচিত এই ডাকসু নেতার দাবি, দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে কলা ভবনের পেছনের ফটক দিয়ে ক্লাসে যাওয়ার সময় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা তার পথ আটকে দাঁড়ান। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে চিনতে না পেরে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং আমাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি আমার দাঁত ফেলে দেওয়ার ভয় দেখান এবং মারতে উদ্যত হন।’
মুসাদ্দিক আরও বলেন, উপস্থিত কয়েকজন তাকে সরিয়ে নিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ফিরে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং বিদায়ের সময়ও গুরুতর হুমকি দেন। এই ঘটনাকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, মুসাদ্দিক তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়েছেন, যার জবাব জানতে চেয়েছিলেন তিনি। আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার নামে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের ব্যাখ্যা চাওয়া কোনো অন্যায় হতে পারে না। প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।’
জানা গেছে, মো. আলাউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার কারণে তার পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়। পরে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ভর্তি হয়ে বর্তমানে ২০২৩-২৪ সেশনে দ্বিতীয়বারের মতো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।