
ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের অস্বস্তিকর খবর একের পর এক সামনে আসছে। জ্বালানি স্বল্পতা এবং প্রধান একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক গোলোযোগের কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আপাতত গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
কেন এই উৎপাদন সংকট?
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
পরিসংখ্যান একনজরে:
গ্যাসভিত্তিক সক্ষমতা: ১২,০০০ মেগাওয়াটের বেশি।
বর্তমান উৎপাদন: গ্যাসের অভাবে সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক।
গত বুধবারের চাহিদা: ১৫,৭৬৭ মেগাওয়াট।
সরবরাহ: প্রায় ১৩,০০০ মেগাওয়াট।
ঘাটতি: ২,০০০ মেগাওয়াট।
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক বিপর্যয়
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যমতে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ১৪৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল। কিন্তু দুপুর ২টার পর উৎপাদন একলাফে কমে ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওই ইউনিটের বিয়ারিং থেকে একটি সতর্কসংকেত বা অস্বাভাবিক শব্দ পান প্রকৌশলীরা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যা বলছেন দায়িত্বশীলরা
পিডিবি ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেরামতের ওপর জোর দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ করতে না পারায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তাই গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, "কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। মেরামতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।"
ইসি ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, আদানির ওই ইউনিটটি সচল হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, যার ফলে আগামী কয়েক দিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।