
বুলেটের শব্দ আর আততায়ী যেন পিছু ছাড়ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের; একের পর এক হামলা থেকে বেঁচে ফিরে তিনি নিজেই বলছেন—প্রেসিডেন্ট হওয়া বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মতো বিপজ্জনক পেশা পৃথিবীতে খুব কমই আছে। ওয়াশিংটনের সর্বশেষ হামলার ঘটনার পর তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬—এই এক দশকে বারবার প্রাণঘাতী হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি। রয়টার্স ও ইউএসএ টুডের তথ্য অবলম্বনে তাঁর জীবনের বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
এপ্রিল ২০২৬: ওয়াশিংটন ডিসি

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালীন হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিক্রেট সার্ভিস তাঁদের ঘিরে ফেলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রধারী এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
২০২৪: ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ার সেই বিভীষিকা
সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ফ্লোরিডা): ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গলফ রিসোর্টে থাকাকালীন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় এক আততায়ী। ঝোপের আড়ালে রাইফেল নিয়ে ওত পেতে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে আটক করে এফবিআই।
জুলাই ২০২৪ (পেনসিলভানিয়া): বাটলারে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চ লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। এতে ট্রাম্পের কান ফুটো হয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এই হামলায় একজন দর্শক নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ঘাতকও প্রাণ হারায়।
২০১৬: প্রথম মেয়াদের সেই উত্তাল দিনগুলো
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা শুরু হয়:
নভেম্বর ২০১৬ (নেভাদা): নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ৫ নভেম্বর নেভাদার রেনোতে প্রচার চলাকালীন ভিড়ের ভেতর থেকে একজন ‘বন্দুক’ বলে চিৎকার করলে ট্রাম্পকে দ্রুত মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে জানা যায় ওই ব্যক্তি নিরস্ত্র ছিলেন।
জুন ২০১৬ (লাস ভেগাস): ১৮ জুন লাস ভেগাসের সমাবেশে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এক পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, ট্রাম্পকে হত্যা করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। ওই ব্যক্তি কারাদণ্ড ভোগ করার পর তাঁকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।
মার্চ ২০১৬ (ওহাইও): ১২ মার্চ ডেটনের এক সমাবেশে এক ব্যক্তি হঠাৎ ব্যারিকেড ভেঙে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান। তবে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা সময়মতো তাঁকে প্রতিহত করতে সক্ষম হন।
দীর্ঘ এই তালিকায় যেমন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বন্দুকধারীদের আগাম ধরা পড়ার ঘটনাও। বারবার হামলা থেকে বেঁচে ফেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা সত্ত্বেও আততায়ীদের ছায়া যেন কাটছেই না।