
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নিজ দেশের কংগ্রেসের চাপের মুখে পড়েছেন। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাত শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে সেই অভিযান গুটিয়ে নিতে হয়।
এই হিসেবে আগামী ১ মে ট্রাম্পের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও দেশটির ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ১ মে’র মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পেলে আইনগতভাবে তাকে এই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে জানাতে হয়। এরপর সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো যায়, যদি প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে লিখিতভাবে জানান যে জরুরি সামরিক পরিস্থিতির কারণে অভিযান চালানো প্রয়োজন।
কলোরাডো ল স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার আইনগত ভিত্তি থাকে না। তবে অতীতে একাধিক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে সাংবিধানিকভাবে বিতর্কিত বলে দাবি করে তা উপেক্ষা করেছেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও তা কার্যকরভাবে বাধ্য করার সুস্পষ্ট পথ নেই।
বর্তমানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কংগ্রেসে অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সিনেটে তার যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার একটি দ্বিদলীয় উদ্যোগ ভোটে ব্যর্থ হয়। অনেক রিপাবলিকান সদস্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরাসরি বিরোধিতা করছেন না।
রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তিনি আর এই যুদ্ধ সমর্থন করবেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছে, এই সামরিক অভিযানে প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অথচ ক্ষমতাসীন পক্ষ পর্যাপ্ত তদারকি করছে না।
যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। সম্প্রতি আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটক এবং তার পাল্টা পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বোডইন কলেজের ইতিহাসবিদ সালার মোহানদেসি মনে করেন, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেললেও তিনি সম্ভবত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সংঘাত চালিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প চাইলে সংঘাত থেকে সরে আসতে পারেন, তবে তিনি সেটি নাও করতে পারেন। অতীতের কিছু সামরিক ক্ষমতা সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যা ব্যবহার করে কংগ্রেসকে পাশ কাটানোর সুযোগও থাকতে পারে। এর আগে ওবামা ও ক্লিনটন প্রশাসনও ভিন্ন ব্যাখ্যায় দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা