
তামিলনাড়ুর রাজনীতির রুপালি পর্দা পেরিয়ে এবার বাস্তবের সিংহাসনে আসীন হলেন থালাপতি বিজয়। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের বার্তা দিয়েছেন। নিজেকে জনগণের অংশ হিসেবে দাবি করে স্বচ্ছ প্রশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার করেছেন এই অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া জনপ্রিয় নেতা।
‘আমিই ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র’
৫১ বছর বয়সী এই নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার পরিচালনায় তিনি কারও হস্তক্ষেপ সহ্য করবেন না। জোট রাজনীতির সমীকরণ থাকলেও নিজের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়ে বিজয় বলেন:
‘আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হবো ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আদতে জোটসঙ্গীদের চাপমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
প্রথম দিনেই জনকল্যাণে দুই বড় সিদ্ধান্ত
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই দাপ্তরিক কাজে গতি এনেছেন বিজয়। সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন:
বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: সাধারণ নাগরিকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল মকুবের ঘোষণা।
নারী সুরক্ষা: নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন।
এছাড়াও রাজ্যের প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে দ্রুত একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার গঠন ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিজয়ের নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর দল ‘তামিলনাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হলো, সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন থাকলেও রাহুল গান্ধীর দল থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তামিলনাড়ুর উন্নয়নে কেন্দ্র থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরাশি হাজার কোটি নয়, বিজয়ের সম্পদ ৬২৪ কোটি
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, থালাপতি বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে তাঁর সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে এবং ১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডি) হিসেবে গচ্ছিত আছে।
তৃণমূল থেকে উঠে আসার দাবি জানিয়ে বিজয় তাঁর ভাষণে বলেন, তিনি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চান না এবং সরকারের কাজের সুফল পৌঁছে দিতে জনগণের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন।