
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবির পর চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের অভ্যন্তরেই এখন তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে বিদ্রোহের সুর জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আগামী সোমবারের (১১ মে) মধ্যে তাঁকে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দলেরই প্রভাবশালী এমপি ও সাবেক মন্ত্রীরা। স্টারমার ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও চলছে।
ওয়েস্টমিনিস্টারে তোলপাড় ও আল্টিমেটাম
শনিবার (৯ মে) রেডিও ফোর-এর এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট এই আল্টিমেটামের কথা ফাঁস করার পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, সোমবারের মধ্যে স্টারমার দায়িত্ব ত্যাগ না করলে তাঁকে সরাসরি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। নির্বাচনে দলের বিপর্যয় এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়ের দায়ভার স্টারমারকে নিতে হবে বলে মনে করছেন বিদ্রোহী পার্লামেন্ট সদস্যরা।
নির্বাচনী ফলাফল: লেবারের পতন ও রিফর্ম ইউকের উত্থান
এবারের কাউন্সিল নির্বাচনে ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের প্রায় ৫ হাজার আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে।
রিফর্ম ইউকে: ১৪৫৩টি আসন জয় করে নিজেদের শক্তি জানান দিয়েছে।
লেবার পার্টি: মাত্র ১০৬৮টি আসন পেয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও নাইজেল ফারাজের দল লেবারকে সমানে সমানে টেক্কা দিয়েছে। মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো এবং স্থানীয় ইস্যুগুলো মোকাবিলায় ব্যর্থতাই লেবারের এই পতনের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে আইনি জটিলতা
স্টারমারকে ক্ষমতাচ্যুত করা তাত্ত্বিকভাবে সহজ হলেও বাস্তবে বেশ জটিল। লেবার পার্টির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী:
নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ এমপির (ন্যূনতম ৮১ জন) সমর্থন প্রয়োজন।
বিদ্রোহী নেত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ জনের মতো এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি বর্তমানে পার্লামেন্ট সদস্য না হওয়ায় সরাসরি নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারবেন না; তাঁকে প্রথমে উপ-নির্বাচনে জিতে এমপি হিসেবে ফিরে আসতে হবে।
স্টারমারের অবস্থান ও পরবর্তী ধাপ
অভ্যন্তরীণ কোন্দল সত্ত্বেও কিয়ার স্টারমার এখনও নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি আগামী সোমবার একটি বিশেষ ভাষণের মাধ্যমে দেশ ও দলের সামনে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এছাড়া বুধবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনে আগামী বছরের সরকারি কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে তাঁর সরকারের।
তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, যদি দলের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা হেভিওয়েট নেতারা একে একে পদত্যাগ শুরু করেন, তবে স্টারমারের পক্ষে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামনের কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের ভবিষ্যৎ।
সূত্র: বিবিসি।