
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এখন এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরাশক্তি চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বেইজিং সফর শেষ হতে না হতেই এবার চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বেইজিংয়ের এই চতুর কূটনৈতিক চালের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে দেখছেন দেশটির সর্বাধিনায়ক শি জিনপিং।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবারের (১৫ মে) এক প্রতিবেদন থেকে ক্রেমলিনের এই চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২০ মে মাত্র এক দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সফরে বেইজিং পৌঁছাতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট। মূলত দুই দেশের মধ্যকার নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবেই পুতিনের এই সফর। যেহেতু এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও কার্যনির্বাহী সফর, তাই বেইজিংয়ে বড় কোনো সামরিক কুচকাওয়াজ কিংবা জমকালো রাজকীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকার সম্ভাবনা কম। তবে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
একই মাসে দুই পরাশক্তিকে আতিথেয়তা: চীনের বিশ্ব রেকর্ড
দীর্ঘ নয় বছরের বিরতি কাটিয়ে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তিন দিনের ঐতিহাসিক চীন সফর আজই শেষ করেছেন। এই সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বৈশ্বিক বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের বিমান বেইজিংয়ের আকাশ ছাড়ার পরপরই পুতিনের এই সফরের খবর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুতিনের এই সম্ভাব্য সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছে চীন। কোনো বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা বৈশ্বিক আয়োজন ছাড়াই, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই মাসে বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানকে এককভাবে আতিথেয়তা দেওয়ার রেকর্ড গড়বে বেইজিং।
এর আগে, চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেষবারের মতো ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল সফর: ক্রেমলিন
এদিকে ট্রাম্পের সফরের পরপরই পুতিনের এই আকস্মিক চীন যাত্রা নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হলেও একে স্বাভাবিক বলেই দাবি করছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিনের বেইজিং সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে, পুতিনের এই সফরটি অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।
অন্যদিকে বেইজিংয়ের অবস্থান জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই শীর্ষ নেতার এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে তারা নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং উপযুক্ত সময়ে সফরের বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমকে প্রকাশ করা হবে।