
চলমান যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যেই এক বিস্ফোরক দাবি করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, আমেরিকার বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ ঠেকাতে ইরানের শীর্ষ সারির নেতারা সশরীরে তাকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বুধবার (১০ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই গোপন তথ্য ফাঁস করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তথ্য দেন যে, সর্বশেষ সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে মোট ৪৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এখানেই শেষ নয়, তেহরানকে একপ্রকার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেধে দেওয়া সব শর্ত ইরান যদি মেনে না নেয়, তবে আগামী রাতেই তাদের ওপর আরও বড় ধরনের ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টিকারী হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন দাবিকে মুহূর্তের মধ্যেই উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, তেহরানের কোনো কর্মকর্তা হামলা বন্ধের আর্জি নিয়ে ট্রাম্পের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "ইরানের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। এটা শুধু যুদ্ধের দায় এড়ানোর জন্য দেওয়া একটি অজুহাত।"
রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি আঘাত
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আল জাজিরাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সবুজ সংকেত পাওয়ার পর মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী ইরানের একাধিক কৌশলগত অবস্থানে নতুন করে সিরিজ হামলা শুরু করেছে।
বসে নেই তেহরানও; আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত হানার দাবি করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তারা ইতিমধ্যেই নিম্নলিখিত স্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে:
ঘাঁটিতে আঘাত: জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
নৌপথে প্রতিরোধ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রুট হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি আক্রমণ।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিখুঁত নির্দেশনাতেই এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডের স্পষ্ট ভাষ্য, ইরানের দীর্ঘদিনের অযৌক্তিক উসকানি এবং অব্যাহত আগ্রাসী আচরণের মোক্ষম জবাব দিতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।