
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক বসতবাড়িতে ডাকাতি করার সময় মা ও মেয়েকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি। গত বুধবার (১০ জুন) ভুক্তভোগী পরিবারের এক নারী বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনায় এ পর্যন্ত আটক হওয়া ৫ আসামিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলুনিঘোনা এলাকার মৃত আলমগীর ফারুকের দুই ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৫), একই গ্রামের মনি আলমের ছেলে মোহাম্মদ তানজিদ (২৫), পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের কদ্দাছড়া এলাকার বশির আহমদের ছেলে মেহেদী হাসান (২৪) এবং সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ তারেক (২৬)।
আদালতে জবানবন্দি ও জেলহাজতে প্রেরণ
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ তারেক ওই বাড়িতে ডাকাতি এবং মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অপরাধে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক তাঁর খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় দুই আসামির এই স্বেচ্ছামূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, এই নৃশংস অপরাধের ঘটনায় ডাকাতি ও ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট ধারায় চকরিয়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন। বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, চকরিয়া থানাধীন পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত জড়িত ৫ ডাকাতকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।