
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের এক মন্তব্য ঘিরে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন নির্বাচন তিনি বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বারাক বলেন, প্রয়োজন হলে তাকে ‘লাঠি ও পাথর দিয়ে’ ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
রোববার (১৪ জুন) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বারাক বলেন, ‘আমার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তিনি খুব সহজেই তা করতে পারবেন।’
এরপর আরও কঠোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যদি তিনি এমন চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে লাঠি ও পাথর দিয়ে মেরে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’
বারাকের এই বক্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, এহুদ বারাক অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন। তার এই আশঙ্কা থেকেই তিনি ওই মন্তব্য করেন।
৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বর্তমান সরকার পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বাধীন জোটকে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে কট্টরপন্থি সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবর মাসে শেষ হবে। সে অনুযায়ী আগামী নির্বাচন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা রয়েছে।
বারাক আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন, যাতে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু অন্তহীন যুদ্ধ চান। কারণ তিনি বোঝেন, যুদ্ধ শেষ হলে তার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘যেভাবে তিনি (নেতানিয়াহু) হামাসের সঙ্গে কিছু বন্দি বিনিময় চুক্তি বাধাগ্রস্ত করেছেন, একইভাবে লেবানন ইস্যুতেও অগ্রগতির সম্ভাবনা আটকে দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরায়েলে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এক কথায়— খারাপ। দুই কথায়— (এই চুক্তি) খুবই খারাপ।’
তার মতে, ‘নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য ও দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে’। তিনি আরও দাবি করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।’
এদিকে বারাকের মন্তব্যের পর নেতানিয়াহুর মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান।
তিনি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বারাক’। তিনি আরও বলেন, ‘তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত। আর যদি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা উচিত।’