
আগামী শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার আগেই ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত দুই মাসব্যাপী মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক স্বস্তিদায়ক এই অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওই শীর্ষ কূটনীতিক উল্লেখ করেন যে, এই অবরোধ তুলে নেওয়া ছিল তেহরানের প্রধানতম শর্তগুলোর একটি। তার ভাষায়, ‘অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আমরা শুরু থেকেই জোর দিয়েছিলাম। এখন তা শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছে।’
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একটি বার্তায় জানান যে, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন।
অবশ্য বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) গত সোমবার জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জারি থাকার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে আরও দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সাথে চলমান বৈরিতা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই চুক্তির বাকি আনুষ্ঠানিকতা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গগত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক হামলা চালায়। সংঘাতের একপর্যায়ে তেহরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এই ঘটনার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিভিন্ন বন্দর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সংঘাতের পর সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার টেবিলে সেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।