
আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের একটি বড় রুট হিসেবে পরিচিত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে (ইস্টার্ন প্যাসিফিক) একটি সন্দেহভাজন নৌযানকে লক্ষ্য করে আকস্মিক ও তীব্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের (সাউথকম) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) পরিচালিত এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে একজন আরোহী নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজনকে জীবিতাবস্থায় আটক করতে সমর্থ হয়েছে মার্কিন সেনারা।
সাউথকমের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কমান্ডার ফ্রান্সিস এল. ডোনোভানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ‘যৌথ টাস্কফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার’ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই সামরিক অভিযানটি সম্পন্ন করে। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নৌযানটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই সেটিকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানায় মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই নৌযানটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার রুট ব্যবহার করে অবৈধ মালামাল নিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযান পরিচালনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ফুটেজও ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সাউথকমের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে নিহত ব্যক্তি একজন দাগী নার্কো-সন্ত্রাসী বা মাদক-উগ্রবাদী। এছাড়া ওই নৌযানে অবস্থান করা অন্য দুই পুরুষ আরোহীকে জীবিত অবস্থায় নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড ও নেভি, তবে আইনি ও কৌশলগত কারণে তাদের নাম-পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
এই তীব্র সংঘর্ষ ও মাদকবিরোধী অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছে সাউথকম। তবে রহস্যময়ভাবে আটক হওয়া ওই নৌযানটি আসলে কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, সমুদ্রের ঠিক কোন স্থানাঙ্কে এই হামলা হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী এটি ধ্বংস করতে কী ধরণের যুদ্ধাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে—সেসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য মেলেনি। মার্কিন সামরিক প্রশাসন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।