
ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রকৃত দায়ী পক্ষকে চিহ্নিত করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (২৪ জুন) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দায় নির্ধারণ করা হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে সম্ভব হবে না।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দিন মিনাবের শাজারেহ তায়িবা বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।
ঘটনার এক মাস পর মার্চে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে হামলাটির জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। পরবর্তীতে পেন্টাগন তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না তারা এই বিষয়ের সমাধান করতে পারবে কি না। কার দোষ ছিল, সেটা তারা কখনোই হয়তো নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না। কারণ তখন চারদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটছিল। যা ঘটেছে তা অবশ্যই ভয়াবহ, কিন্তু সেসময় সর্বত্রই ক্ষেপণাস্ত্র উড়ছিল।”
হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ বলছে এটা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। কিন্তু হয়তো তা ছিল না। এটা আমাদের করা এমনটা বিশ্বাস করার মতো কোনো প্রমাণ আমি দেখিনি। আমার মনে হয় না আমরা এটা করেছি।”
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, পুরোনো লক্ষ্যভিত্তিক তথ্য (টার্গেটিং ডেটা) ব্যবহারের কারণে ভুলবশত মিনাবের ওই বিদ্যালয়ে হামলা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় হামলাটিকে “সম্পূর্ণ ভয়াবহ” বলে আখ্যায়িত করেছিল।
উল্লেখ্য, হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। তবে পরে নিজের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তিনি পুরো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তার দাবি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।
সূত্র: রয়টার্স