
জনপরিসরে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে এবার দেশজুড়ে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে ডেনমার্ক সরকার। অভিবাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের এই দেশটি এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউজ ১৮-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে ডেনমার্কের অভিবাসন ও একীভূতকরণমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ স্পষ্ট করে বলেছেন, "মসজিদ থেকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান সম্প্রচার সীমিত করার আইনি কাঠামো পর্যালোচনার কাজ আবারও শুরু করবে সরকার।" তার ভাষ্য, "ডেনমার্কের আকাশে বা জনপরিসরে আজানের ধ্বনি শোনা উচিত নয় এবং এটি দেশটির সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।"
সরকারি এই নতুন রূপরেখায় স্থানীয় শব্দদূষণ আইনের মারপ্যাঁচ এড়িয়ে পুরো রাষ্ট্রজুড়ে একটি অভিন্ন ও একক নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ডেনিশ পার্লামেন্টে একটি সুনির্দিষ্ট বিল বা সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জনসমক্ষে মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করে নামাজ কিংবা আজানের আহ্বান প্রচারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর সুপারিশ করা হয়।
ডেনমার্কে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিবাসন নীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনসংক্রান্ত চলমান টানাপোড়েনের মাঝে এই সরকারি উদ্যোগ নতুন করে বিতর্কের আগুন উস্কে দিয়েছে। বিলটির পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাদের দাবি—জনসাধারণের উন্মোচিত স্থানে ধর্মীয় প্রচারণার সুযোগ সীমিত রাখাই শ্রেয়। পক্ষান্তরে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন নিষেধাজ্ঞা ডেনমার্কের নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সব ধর্মাবলম্বীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক ভিত্তিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।