
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতার ওপর লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ভবিষ্যতে ইরানকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের লক্ষ্যে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সিনেটে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্র সময়) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। এর আগে ৩ জুন প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়েছিল। রিপাবলিকান পার্টি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকলেও কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
ভোটের আগে সিনেটে বক্তব্য দিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতা চাক শুমার ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি মার্কিন জনগণকে সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা ও ব্যয়ের মুখে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বারবার রিপাবলিকানরা জনগণের পরিবর্তে ট্রাম্প ও তার যুদ্ধনীতির পাশে দাঁড়িয়েছে। ইরানে তার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে আনতে কংগ্রেসের এটি ছিল দশম উদ্যোগ। এর আগে ২০ মে সিনেটে একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাব পাস হলেও সেটি কার্যকর কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী ব্রুস ফেইনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসকে দিয়েছে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান দলের বিল ক্যাসিডি, লিসা মুরকোভস্কি, সুসান কলিন্স ও র্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেবল জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।
এদিকে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরানবিরোধী এই যুদ্ধকে সফল মনে করেন মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আভাস দেখা যাচ্ছে।