
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম মুখ হিসেবে সামনে এসে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তবে নড়বড়ে এই সমঝোতা শুরু থেকেই নানা অনিশ্চয়তায় ঘেরা থাকায়, এর সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ভ্যান্সের অবস্থান কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ‘অন্তহীন যুদ্ধ’-এর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্সকে তখন প্রশাসনের নীতির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে হয়। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে ভ্যান্স শুরু থেকেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন। এমনকি তাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে তিনি আবারও নিজের রাজনৈতিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সের অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করছে এই উদ্যোগের ফলাফলের ওপর। যদিও রিপাবলিকান শিবিরে এখনও তিনি জনপ্রিয় মুখ, তবে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর প্রভাব বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় ভ্যান্সের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির সম্ভাব্য কিছু শর্ত—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব—রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থি অংশ এবং ইসরায়েলপন্থি মহলের সমালোচনার মুখে ফেলেছে তাকে।
এদিকে আলোচনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানবিরোধী কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পুনরায় হামলার হুমকিসহ বিভিন্ন মন্তব্যের পর ভ্যান্সকে প্রকাশ্যে প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভ্যান্স ইরান চুক্তি ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কিছু নীতিরও ব্যতিক্রমধর্মী সমালোচনা করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ভ্যান্স নিজেকে একজন সফল কূটনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু চুক্তি ভেঙে গেলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের একটি মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি রসিকতার ছলে বলেছেন, “চুক্তি সফল হলে কৃতিত্ব আমার, আর ব্যর্থ হলে দায় জে ডি ভ্যান্সের।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য মজার ছলে করা হলেও এর মধ্যেই ভ্যান্সের সামনে থাকা বাস্তব রাজনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।