
গাজা যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হলেও উপত্যকাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ।
বর্তমানে গাজায় বসবাসকারী ২০ লাখের বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শুরুতে অঞ্চলটির অর্ধেকের বেশি অংশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইসরাইল সরকার। দেশটির লক্ষ্য গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এদিকে, গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগও এখনও সীমিত। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতি থমকে আছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স বলেছেন, গাজায় স্বাভাবিক জীবনের সামান্য চিহ্ন ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে সেই পরিস্থিতি এখনও অনেক দূরে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক স্থানে স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।