
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সরাসরি দৃশ্যে দেখা যায়, উচ্চপর্যায়ের একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে তাঁরা খামেনির মরদেহের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সম্মান প্রদর্শন করছেন।
উদ্ধৃতি দিয়ে জিও নিউজ জানায়, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খামেনির ইসলাম ও ইরানের প্রতি আজীবন অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "তিনি অসাধারণ প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে ইরানি জাতিকে পথ দেখিয়েছেন।"
একই সাথে শাহবাজ শরিফ ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত এবং পরকালীন সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের শোক সফরে সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি ও জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সংসদীয় প্রতিনিধিদলও খামেনির শেষকৃত্যে শরিক হয়। এই দলে দেশটির বিভিন্ন সংসদ সদস্যসহ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত নেতার জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের উদ্দেশে ইস্তাম্বুলের পথে তেহরান ত্যাগ করেন।
অন্য দিকে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
এর আগে, শুক্রবারই বিশেষ বিমানে তেহরানে পৌঁছান শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির। মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের বহনকারী বহরটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। এ সময় দুই দেশেরই শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, এক দিনের এই ঝটিকা সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শোকের এই কঠিন মুহূর্তে ইরানের পাশে থেকে ইসলামাবাদের পূর্ণ সংহতি ও বন্ধুত্বের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করা।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদলে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।