
চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের কাছাকাছি জল ও আকাশসীমায় ‘জয়েন্ট সি-২০২৬’ নামে বার্ষিক যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে চীন ও রাশিয়া। সোমবার (৬ জুলাই) শুরু হওয়া এই মহড়ায় দুই দেশের নৌবাহিনী সমুদ্র ও আকাশপথে সমন্বিত অভিযান, উদ্ধার কার্যক্রম এবং বিমান প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মহড়ায় অংশ নিতে দেশটির প্যাসিফিক ফ্লিটের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে চিংদাও বন্দরে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, চীনের নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট, একটি সাবমেরিন, একটি সরবরাহ জাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
এবারের অনুশীলনে শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রে আকস্মিক হামলার মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই ও উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর এই যৌথ মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। ওই সফরে পুতিন দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। একইভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে দৃঢ় ও স্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেন।
২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ‘জয়েন্ট সি’ নামে এই যৌথ নৌ মহড়া আয়োজন করে আসছে বেইজিং ও মস্কো। গত বছরের মহড়া রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তোকের উপকূলে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে দুই দেশের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহলেও অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পরও চীন প্রকাশ্যে এর নিন্দা জানায়নি। বেইজিং নিজেকে নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে দাবি করে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।