
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আর বহাল নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে তাদের ‘অসুস্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ন্যাটোর সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থান করছেন ট্রাম্প। বুধবার সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘণ। ইরানে ক্ষমতাসীন সরকারের নেতারা অসুস্থ এবং নোংরা এবং আমি মনে করি, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা করা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়।”
এর আগে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে ১৪ ধারার একটি চুক্তি সই হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার অঙ্গীকার করে ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর আরোপিত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির বন্দরগুলোর অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকার কথা ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেই চুক্তির শর্ত ভেঙে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। হামলার শিকার জাহাজগুলো হলো—মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী কাতারি জাহাজ ‘এমটি আল আল-রেকাইয়াত’, সৌদি আরবের পতাকাবাহী ‘এমটি ওয়াদিয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি’।
এই ঘটনার পর মঙ্গলবার ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তু ও স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
হামলার বিষয়ে সেন্টকম জানায়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সেন্টকমের ওই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৫টি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।