
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী নৌকাডুবির পর টানা তিন দিন উত্তাল সাগরে ভেসে থাকার পর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে সাত বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। এখনও নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।
রোববার (১৯ জুলাই) দেশটির উদ্ধার কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বুধবার সুলাওয়েসি দ্বীপের দক্ষিণে সেলায়ার দ্বীপসংলগ্ন সাগরে ৭০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে চলা একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা প্রথমে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২৫ জনের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন। তবে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে একপর্যায়ে তারা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, নৌকাডুবির পর জেরিক্যান, কর্কের টুকরোসহ ভাসমান বিভিন্ন বস্তু দড়ি দিয়ে বেঁধে অস্থায়ী একটি ভেলা তৈরি করেন তারা। সেই ভেলার সাহায্যেই তিন দিন সাগরে টিকে ছিলেন।
তার ভাষ্য, শনিবার বিকেলে স্থানীয় জেলেরা তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। পরে রেডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
আরিফ বলেন, কয়েক দিন পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে উদ্ধার হওয়া সবাই চরম ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে সঙ্গে থাকা কিছু ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও বিস্কুট খেয়ে তারা জীবিত থাকতে সক্ষম হন।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে পাঁচটি বড় জাহাজ, একটি অনুসন্ধানী বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌকাটির সরকারি যাত্রী তালিকায় ৫০ জনের নাম থাকলেও পরবর্তী যাচাইয়ে এতে মোট ৭৮ জন আরোহী ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী নৌযানে প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা ও সরকারি তালিকার মধ্যে অমিল প্রায়ই দেখা যায়। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌ দুর্ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন স্প্যানিশ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।