
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বারবার ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আবারও ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
রোববার (১৯ জুলাই) ইরানের ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক বার্তায় এসব মন্তব্য করেন খামেনি। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার জানাজা এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন।
খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যাকে আমরা ‘গ্রেট স্যাটান’ বা ‘মহাশয়তান’ বলি, আবারও কোনো মুখোশ ছাড়াই তার প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে।’ তার ভাষ্য, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং বিভিন্ন অপরাধের পুনরাবৃত্তি যুক্তরাষ্ট্রের অসততা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বাসযোগ্যতা ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের নতুন প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি এবং নির্মমতাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
ওয়াশিংটনের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ উসকে দেওয়া এবং আরও বড় মূল্য ও অপমান বরণ করার পথে এগোতে চায়, তাহলে তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে, যা তারা কখনও ভুলতে পারবে না।’
খামেনির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাই ইরানের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে ঐক্য অটুট থাকলে ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে ‘অপরাধী ও প্রতারক শত্রু’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
একই বার্তায় ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন খামেনি। তিনি এটিকে ইরানের ইতিহাসে নজিরবিহীন গণজাগরণ উল্লেখ করে বলেন, এই অংশগ্রহণ দেশটির ইসলামী-ইরানি পরিচয় এবং জনগণের অটল সংকল্পের প্রতীক।