.jpeg)
ক্যাম্পাসের বাইরে নবীন শিক্ষার্থীদের (১৫তম ব্যাচ) র্যাগিং এবং বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, ‘ওরিয়েন্টেশনে সিনিয়ররা আমাদের অনেক আপ্যায়ন করেছে। ক্লাসরুমে ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে একটি পাঁচতলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। একজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন কান্না করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাসে উঠতে নিষেধ করেছে। আমাদের মোবাইল ফোন নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা ভবনের ভেতরে আটকে রেখেছিল।’
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘একজন ছাত্রী পরিচয় দিতে গিয়ে এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছিল যে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরও ভাইয়েরা আবার শুরু করে। এতে কয়েকজন ছাত্রী কান্না শুরু করে। মেয়েদের সঙ্গেও ধমক দিয়ে কথা বলা হয়েছে। আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। ছাত্রীদের বিকেল সাড়ে ৫টায় এবং ছেলেদের সাড়ে ৬টায় ছাড়া হয়। আমাদের বলা হয়েছে, আমরা ক্যাম্পাসে কুকুরের চেয়েও নিচে। কুকুরকেও নাকি আমাদের সালাম দিতে হবে। এসবের নেতৃত্ব দিয়েছে সিআর, ১২তম ব্যাচের। আরও বলা হয়েছে, এখানে যা হয়েছে কাউকে বলবে না। স্যাররাও বিষয়টি জানেন, তাই তাদের বলেও লাভ নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘দেড়টা থেকে দুটার মধ্যে আমাদের অনুষ্ঠান শেষ হয়। এরপর ভাইয়েরা ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে একবার ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে ভোলা রোডের পাশে বিটেক বিল্ডিংয়ে নিয়ে যায়। সেখানে পিটির মতো করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। একটি ছোট কক্ষে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জনকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, বকাঝকা করা হয় এবং প্রত্যেককে আলাদাভাবে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তৌফিক ওমর অপু বলেন, ‘আমরা ক্লাসে স্যারদের অনুমতি নিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং খাবার বিতরণ করেছি। এর বাইরে তাদের নিয়ে বসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম আমি বা আমার ব্যাচ করিনি। অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।’
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী জয় বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে কোথাও নিয়ে যাইনি। ক্লাসরুমে অনুষ্ঠান করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই কথা বলে তাদের ছেড়ে দিয়েছি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সরদার কায়সার আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টির মৌখিক কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি জানার পর থেকেই আমি এটি নিয়ে কাজ করছি। বিস্তারিত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আইন বিভাগের অবস্থান একেবারেই জিরো টলারেন্স। ঘটনা ছোট হোক বা বড়, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ববি সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ২-১ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। অতিসত্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ চলছে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স।’