
ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিকট ধস ও প্রাণঘাতী মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ধসে টানেলের প্রবেশপথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য কারণ জানিয়ে সিকিম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন:
কোনো বিস্ফোরণের কারণে টানেলে ধস নেমে থাকতে পারে। সেটি কীভাবে ঘটেছে তা জানা যায়নি। ভেতরে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকার বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে।
টানা কয়েকদিন ধরে সিকিমজুড়ে প্রবল বর্ষণ চলছিল। এরই মাঝে সোমবার বিকেলে নামচি জেলায় অবস্থিত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনএইচপিসি) ‘তিস্তা স্টেজ-৬’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে এই ধসের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছালেও অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও সুড়ঙ্গের ভেতর জমতে থাকা বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের তীব্রতার কারণে উদ্ধার তৎপরতায় চরম বিঘ্ন ঘটে।
সুড়ঙ্গে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে কিছু ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সিকিম প্রশাসনের তথ্যমতে, ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে মোট ২৭ জন সদস্য অবস্থান করছিলেন—যার মধ্যে ১৯ জন সাধারণ শ্রমিক, ২ জন প্রকৌশলী এবং এনএইচপিসির ৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে বেসরকারি কিছু সূত্রের দাবি, টানেলে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা ৩৮ জন হতে পারে। অপরদিকে এএফপি-র কাছে রাজীব রোকা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেতরে মূলত ২৫ থেকে ২৭ জনের মতো আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো সর্বোচ্চ শক্তিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন মানুষও যদি সুড়ঙ্গে জীবিত বা মৃত অবস্থায় আটকে থাকেন, তবে অভিযান বন্ধ হবে না। উদ্ধারকারীরা বিশেষায়িত অ্যান্টি-গ্যাস মাস্ক পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিষাক্ত বায়ুর প্রভাবে কাজ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী দলের একাধিক সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।