
ভারতের কলকাতার আলোচিত আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) নিয়োগ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদনে সিবিআই নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজার পরিবর্তে দিল্লি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্দীপনী গর্গকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনার তদন্তে গঠিত নতুন বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) বর্তমানে মামলার ২০ খণ্ডের কেস ডায়েরি এবং আনুমানিক এক হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। পুরো এসআইটি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিবিআইয়ের একজন যুগ্ম পরিচালক।
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী অমর্ত্য দে জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য এসআইটিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্বের তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও নতুন এই দলটি যাচাই করে দেখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে হাসপাতালের অভ্যন্তরে কর্তব্যরত অবস্থায় ৩১ বছর বয়সী এক নারী চিকিৎসককে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। উক্ত ঘটনায় ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তাদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে শুনানির সময় নিহত চিকিৎসকের মা নতুন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে শেষবার যাদের দেখা গিয়েছিল, তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অনুরোধ জানান।
নতুন সরকারের প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনজন আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ফলে এবার অন্তত একটি পুরোপুরি নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সেপ্টেম্বরে ধার্য করা হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ)