
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া গাজার একটি আবাসিক এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন শিশু ছিল। উদ্ধার করা দেহাবশেষ গত মঙ্গলবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা সিটির সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ব্লকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি বেদুইন গোত্র আল-হাসায়না-এর অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের ওই হামলায় বৃহত্তর আল-হাসায়না পরিবারের ৩০৮ জন নিহত হন। আবু শারিয়া নামেও পরিচিত এই পরিবারের সদস্যরা হামলার সময় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অবস্থান করছিলেন। রাতের বেলায় হামলা হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন।
হামলার পর প্রায় অর্ধেক মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করা হলেও ১৫৩ জনের দেহাবশেষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর ৪০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল টানা ১৭ দিনের অভিযানে নিখোঁজ ১১২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সমতল করা একটি স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যরা জড়ো হন। সেখানে জানাজা শেষে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ দাফন করা হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একে গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণজানাজাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে।
জানাজার পর স্বজন ও স্থানীয়রা কফিন কাঁধে নিয়ে কবরস্থানের দিকে যান। কফিনগুলোর সামনে নিহত নারী, পুরুষ ও শিশুদের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পূর্ববর্তী হামলায় আহত আরও দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।