
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য মূল উৎপত্তিস্থল গোপন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঠানো প্রায় ছয় হাজার কৃষিপণ্য চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপে পাঠানো চালানের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঠানো চালানের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ পণ্যের উৎস এসব অবৈধ বসতি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রপ্তানিকারকরা মূলত তিনটি কৌশলে পণ্যের প্রকৃত উৎস আড়াল করে থাকেন। প্রথমত, পণ্যের পোস্টাল কোড উল্লেখ করা হলেও দেশ হিসেবে ইসরায়েলের নাম দেওয়া হয়। ফলে পণ্যটি বসতি থেকে এসেছে কি না, তা শনাক্তের দায়িত্ব পড়ে ইউরোপীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের ভেতরে অবস্থিত ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।
তৃতীয় কৌশল হিসেবে প্যাকিং হাউসে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে বসতিতে উৎপাদিত পণ্য মিশিয়ে বা ‘মিংগলিং’ করে রপ্তানির নথি প্রস্তুত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় খুরমা খেজুর, সাইট্রাস ফল, শাকসবজি ও ভেষজ পণ্য নিয়মিত ইউরোপে পাঠানো হচ্ছে।
অবৈধ বসতির এসব পণ্য ঠেকাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
আয়ারল্যান্ড ও স্পেন এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিল পাস ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বেলজিয়ামও জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভিত্তিক যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স ও সুইডেন শুল্ক অথবা রপ্তানি লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে যৌথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউরোপীয় কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।
গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক আমদানি নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে পুরো জোটে এ বিষয়ে এখনো সর্বসম্মত কোনো চুক্তি হয়নি।
গ্লোবাল ইকো অভিযোগ করেছে, অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ইইউ-ইসরায়েল চুক্তির আওতায় রেয়াতি সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য ও অর্গানিক সনদের সঠিকতাও লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর