
চীনের দীর্ঘদিনের লিঙ্গবৈষম্য ও জনসংখ্যাগত সংকটকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা কিছু ঘটকালি সংস্থার প্রতারণায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন জীবনসঙ্গী খোঁজা নিঃসঙ্গ পুরুষেরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষ করে গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরকে ঘিরে দ্রুত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক সন্তানের নীতি এবং ছেলেসন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে চীনে বর্তমানে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। ফলে গ্রাম ও ছোট শহরগুলোর ৩০ পেরোনো পুরুষদের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুইয়াং শহরের কিছু ঘটকালি সংস্থা মাত্র তিন দিনে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ পুরুষদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও পণ দাবি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।
প্রতারণার শিকার ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং জানান, পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আশ্বাস পেয়ে তিনি একটি ঘটকালি সংস্থাকে চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান দেন। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী তিন সন্তানের মা, একাধিকবার বিবাহিত, গুরুতর ঋণের মধ্যে রয়েছেন এবং যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত। প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই সংস্থাটি কার্যালয় বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।
আরেক ভুক্তভোগী ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন জানান, ছেলের বিয়ের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত দিনের মাথায় জানতে পারেন, কনে পালিয়ে গেছে। পরে পুলিশ ওই গৃহবধূ এবং ঘটকালি সংস্থার মালিকদের গ্রেপ্তার করে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালি-সংক্রান্ত অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে দেশব্যাপী এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযানও শুরু করেছে।
নাসচিংয়ের আইনজীবী ফ্যান বিংহে জানান, বিবাহবিষয়ক আইনি জটিলতা এবং প্রতারকদের কৌশলগত যুক্তির কারণে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত পাওয়া ও অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নিঃসঙ্গ পুরুষ এখন সর্বস্ব হারিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় শহরটিতে দিন কাটাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করছেন।