
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিম বঙ্গ’ করার দাবি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য।
বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির রাজ্যসভায় কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার বিল নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
মূলত বাংলা ভেঙে গঠিত এই রাজ্যটি ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল নামে পরিচিত। তাই সরকারের কাছে রাজ্যটির নাম ‘পশ্চিম বঙ্গ’ করার দাবি জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ শুধু একটি নাম নয়, এর সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় রাজ্যটি গঠনের পরিস্থিতি জড়িয়ে আছে।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় বাঙালি হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক রাজ্যের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কংগ্রেসও স্বীকার করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে শুধু ‘বেঙ্গল’ করা হলে পৃথক রাজ্যের জন্য যারা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের প্রতি অসম্মান করা হবে। তাই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিম বঙ্গ’ করার দাবি জানান তিনি।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ বা ‘বেঙ্গল’ করার প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব বহু বছর ধরে কেন্দ্রের বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে শমীক ভট্টাচার্য কেরালার নাম ‘কেরলম’ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কৃতিত্ব দেন।
বুধবার রাজ্যসভায় কেরালার নাম পরিবর্তনের বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে লোকসভাতেও বিলটি পাস হয়েছিল।
একই আলোচনায় বিহারের রাজধানী পাটনার নাম ‘পাটলিপুত্র’ করার দাবিও ওঠে। রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা এ দাবি জানান। পাশাপাশি নালন্দা জেলার বখতিয়ারপুর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের দাবিও উত্থাপিত হয়।
তবে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেয়নি মোদি সরকার।