
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগত এই জলপথটি চিহ্নিত করে লেখা ছিল, ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’। এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার কথা বলেছিলেন।
পরে হোয়াইট হাউসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের ওই পোস্টটি পুনরায় প্রকাশ করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ‘ইরান ইন হায়দরাবাদ’ নামের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। ওই মানচিত্রে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড’।
এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের জবাব দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিগগিরই এই ভ্রান্তি সংশোধন করা হবে—অথবা ইরানই তা সংশোধন করবে।
ইরানের এই পাল্টা বার্তার সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় দেশটির প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্রও রয়েছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি বসতি রয়েছে। ইউসিএলএর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের ইরানিয়ান ডায়াসপোরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামে পরিচিত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এলো। গত কয়েক মাসের সংঘাতের পর জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং পরবর্তী বৃহত্তর সমঝোতার পথ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা থমকে আছে।
অন্যদিকে, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু