
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সরু ভূখণ্ডের নিরাপত্তা জোরদারে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ি সফরে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি রুপির একাধিক প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, ‘শিলিগুড়ি করিডোর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডোরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহারের’ মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি জরুরি হলেও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেও তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ১১২৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৯ একর জমির অনুমোদনও দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অমিত শাহ।
‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি রুপির প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশনে রূপান্তরের কাজ চলছে।
সবচেয়ে বড় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়িতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ।